নিম পাতার উপকারিতা ১৩ থেকে ২২৮ টির বেশি নিমপাতা বিশেষ উপকারীতা রয়েছে।
সেই প্রাচীনকাল থেকেই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নিম গাছ এই গাছটি বাংলাদেশের প্রায় আনাচে-কানাচে দেখা যায়। আমরা নিমগাছ হিসেবে চিনি। এই নিম গাছের বিভিন্ন নাম রয়েছে।
যেমনঃ সু-সাস্থের জন্য সাংস্কৃতিক ভাষায় বলে নিম্ব, বাংলা, হিন্দি, পাঞ্জাবী, ভাষা বলে নীম তেলেগু- ভেপা, ইংলিশ ভাষায় বলে। মারগোসা, নিম গাছ, লাতিন, যাইহোক নিম গাছের কিছু নামের সাথে পরিচয় হইলাম আসুন বিস্তারিত জেনে নিন। উপমহাদেশে এই ঔষধি নিমগাছ প্রকৃতির সঙ্গে সমাধান করে আসছে। এই নিমগাছের রয়েছে রাসায়নিক উপাদান। স্টিম বাথ, বিটার, প্রিন্সিপাল, মারগোসিন, নিম্বিনিন, মিম্বিদিন, নিমবিডিন, নিম্বিন, নিম্বিস্টেরল, এসবেবটিল অলি, ট্যানিন স্টিয়ারিক অ্যাসিড, লিরিক, অ্যাসিড, ওলিক এসিড, গ্লুকো সাইড সালফার।
(১) কোন কোন রোগের কাজ করে নিম গাছের পাতাঃ
কোষ্ঠকাঠিন্য চর্মরোগ, বাতজ্বর, একজিম্ দাউদ, বিখাউজ, খাবারে রুচি বৃদ্ধি করে। নিমপাতা গুঁড়ো করে তার সাথে পরিমাণমতো পানি দ্বারা বড়ি বানিয়ে প্রতিদিন খাবারের আগে খেতে হবে। খাবারের আগে এক থেকে দুই মাস খেলে খাবারে রুচি বৃদ্ধি হবে।
(২) যেকোন দাঁতের সমাস্যাঃ
নিম গাছের কচি ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাড়ি শক্ত থাকে এবং দাঁত মজবুত হয়। নিম পাতার রস ও পানির সাথে মিশিয়ে গড়গড়া কুলি করলে মাড়ির ব্যথা চলে যায়।
(৩) নিম গাছের পাতার রস জন্ডিস নিরাময় করেঃ
নিম গাছের পাতার রসের রসের সাথে মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে এই নিম গাছের পাতার রস খালি পেটে খেলে জন্ডিস নিরাময় হয়।
(৪) নিমপাতা চোখের সমস্যা দূর করেঃ
নিম গাছের পাতা চোখের সমস্যা সমাধান করতে সহায়তা পালন করে। এক মুঠো নিম পাতার পরিমান মতো পানি দ্বারা ভালো করে ফুটিয়ে সেই পানি এগুলো ভালোভাবে ছেঁকে নিন। এক মুঠো নিম পাতার পরিমান মতো পানি দ্বারা ভালো করে ফুটিয়ে সেই পানি এগুলো ভালোভাবে ছেঁকে নিন। এই পানি দ্বারা নিয়মিত মুখ ধুলে মুখের যেকোনো সমস্যা দূর হয়। এমন কি মুখের কালো দাগ দূর করে।
(৫) নিমপাতায় ব্রণ ভালো হয়ঃ
নিমপাতা এক মুঠো ভালো করে গুড়া করতে হবে। কিছু পানি দ্বারা পেস্ট বানিয়ে মুখে মেখে কিছুখণ রেখে দিন। তার পর ভালো করে মুখ পরিষ্কার করুন এই ভাবে ১ থেকে ২ মাস ব্যবহারে ব্রণ ও মুখের সমস্ত ভাইরাসকে ধংস করে এই নিম গাছের পাতা।
(৬) নিমপাতা চুলের খুশকি দূর করেঃ
নিমগাছের পাতা ভালো করে পরিমাণমতো পানি দ্বারা ভালো করে সিদ্ধ করে নিন। পানির লালচে লালচে রং হলে নামিয়ে ফেলুন ঠান্ডা হওয়ার পরে মাথায় ভালো করে শ্যম্পু দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন ২ থেকে ৩ মিনিট তার নিমপাতার দ্বারা মাথা পরিষ্কার করুন এই ভাবে খুশকি দূর করে।
(৭) নিমপাতায় ক্ষত দ্বাগ দূর করেঃ
নিমগাছের পাতা এক মুঠো নিয়ে ভালো করে গুড়া করে পরিমাণ মতো পানি দ্বারা পেস্ট বানিয়ে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে রাখুন ১০ থেকে ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন এভাবে এক থেকে দুই মাস ব্যবহারে ক্ষতদ্বাগ দূর হয়।
(৮) নিমগাছের পাতা ফোঁড় নিরাময় করেঃ
নিমপাতা গুড়ো করে তার সাথে মধু মাখিয়ে যেইখানে ফোঁড়া আছে সেখানে দুই থেকে তিন ফোটা করে লাগিয়ে দিন ৫ থেকে ৭ দিনে ফোঁড়া সেরে যাবে।ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। নিম গাছের পাতা গুড়ো করে তার সাথে কাঁচা হলুদ মিশ্রণ করে ১২ থেকে ১৫ মিনিট পরে মুখ ভালো পরিষ্কার করুন এই ভাবে ত্বকের যে কোনো দ্বাগ দূর করে। ত্বক হবে ঝলমলে উজ্জ্বল।
(৯) নিম গাছের বীজ আলসার নিয়ন্ত্রণ করেঃ
নিমপাতা ও নিমের বীজের রস করে প্রতিদিন নিয়মিত খেলে গ্যাসটিক ও আলসার ভালো হয়।
(১০) নিম গাছের পাতায় ডায়াবেটিস নিরাময়ঃ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে এই নিম গাছের পাতার রস বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নিমপাতার রস প্রতিদিন নিয়মিত দুই থেকে তিন মাস সকালে খালি পেটে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
(১১) নিম গাছের পাতায় কৃমি ধ্বংস করেঃ
নিম গাছের ছাল চূর্ণ করে চার থেকে পাঁচ গ্রাম পানি দ্বারা ভালোভাবে এক পাত্রের জাল করে পরিমাণমতো লবণ দিয়ে সকালে খালি পেটে ৭ দিন সেবন করলে কৃমি নিরাময় হয়। মনে রাখবেন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এক থেকে দুই গ্রাম।
(১২) ঘন ঘন স্বপ্নদোষ বন্ধ করেঃ
প্রতিদিন নিয়মিত নিম গাছের ছালের রস ২ থেকে ৩ চা চামচ একগ্লাস গাভীর দুধের সাথে মিশ্রণ করে প্রতিদিন সেবন করলে স্বপ্নদোষ বন্ধ হয়।
(১৩) নিমপাতায় পুরাতন জ্বর ভালো হয়ঃ
সকাল-সন্ধ্যায় প্রচন্ড জ্বর হাত পা জ্বালাপোড়া করে চোখ জ্বালাপোড়া করে। প্রচন্ড কাশি কপালে ঘাম ঝরে মেহ প্রমেহ বা ঘুষঘুষে জ্বর এমনকি ম্যালেরিয়া জ্বর চিরতার সাথে নিম গাছের পাতার রস সকালে খালি পেটে ১ চা চামচ করে খেলে মেহ প্রমেহ বা ঘুষঘুষে জ্বর এমনকি ম্যালেরিয়া জ্বর ভালো হয়।
Post a Comment